আজ রবিবার , ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

এমপি মাহমুদুল হক সায়েমকে সি.আই.পি শামিমের সংবর্ধনা হালুয়াঘাটে ঈদে বাড়ি ফেরার পথে লাশ হল স্বামীসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হালুয়াঘাটের স্থলবন্দর দিয়ে ২৭টি পণ্যের আমদানী রপ্তানীর পরিকল্পনা-এমপি সায়েম হালুয়াঘাটে ২৭ হাজার দুস্থ অসহায় পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ১৩ বছর পর পদত্যাগ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হালুয়াঘাটে ফেইসবুক গ্রুপে কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতা। পুরস্কার বিতরণ ‘কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণকেশীর ‘বেহিসেবি রঙ.. হিমাদ্রিশেখর সরকার হালুয়াঘাট থেকে ফুলপুর পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা নির্মাণসহ সড়ানো হচ্ছে অস্থায়ী বাস কাউন্টার জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে থাকবে-প্রিন্স ডামি নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে আইসিইউতে পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ-প্রিন্স বাজারে পণ্যের অগ্নিমূল্যের তাপ তাদের গায়ে লাগেনা-প্রিন্স নালিতাবাড়ীতে প্রেসক্লাবের নির্বাচন, সভাপতি সোহেল সম্পাদক মনির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে-বিএনপি নেতা প্রিন্স হালুয়াঘাটে বিএনপি নেতা প্রিন্স’র লিফলেট বিতরণ ৯৮ দিন কারাভোগের পর নিজ এলাকায় বিএনপি নেতা প্রিন্সকে সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে পরিচয় আড়াল করে দুই বোনের শিক্ষকতার চাকরি

প্রকাশিতঃ ৩:৫১ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৫, ২০২৩ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৬৬৮ বার

ওমর ফারুক সুমনঃ নিজের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় একই পিতার দুই কন্যা।দুই শিক্ষিকার নাম তাহিরা খানম রুম্মান ও ফাতেমা জান্নাত মৌরি।শিক্ষিকা দুইজনই শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দী ইউনিয়নের বরুয়াজানী গ্রামের আমির হোসেন খানের কন্যা।স্থায়ী সুত্রেও শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বরুয়াজানী গ্রামের বাসিন্দা। মানবজমিনের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে তাদের প্রকৃত পরিচয়।সুত্রে জানা যায়,২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় চাকরির জন্যে আবেদন করেছিলেন তাহিরা খানম রুম্মান।আবেদনের রোলঃ ১৮৫০২০৮।হালুয়াঘাট উপজেলা থানা ভিত্তিক মেধাক্রম ৫১।অপরদিকে ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছিলেন ফাতেমা জান্নাত মৌরি।নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে হালুয়াঘাট উপজেলার বাহিরশিমুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী তারিখে জেপ্রাশিঅ/ময়মন/হালুয়া/সঃশিঃনিঃ/২০১৮/৫০৫/৫০৫/৮৩ স্বারক মূলে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে মার্চের ১৭ তারিখে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তাহিরা খানম রুম্মান।আর ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারী তারিখে প্রশ্চিম পাবিয়াজুড়ী চকপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন অপর বোন ফাতেমা জান্নাত মৌরি।নিয়োগ বিধি অনুসারে বলা হয়েছে, আবেদন করার সময় প্রার্থীর পিতা অথবা স্বামীর ঠিকানায় আবেদন করতে হবে। প্রার্থী আবেদনে স্বামী বা পিতার ঠিকানা যেটি উল্লেখ করবেন প্রার্থীতা সেই উপজেলা বা থানা কোটায় বিবেচিত হবে। অনুসন্ধানে জানা জায়, তাহিরা খানম রুম্মান ও ফাতেমা জান্নাত মৌরি পিতা/স্থায়ী সুত্রে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বরুয়াজানী গ্রামের বাসিন্দা।দুইজনেরই পিতার নাম আমির হোসেন খান।উভয়েই বরুয়াজানী গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার।ভোটার নং-৮৯০৫৭১৬৭৬৩৭৮।সিরিয়াল নং-০৫১৩।জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৮৯১৭০৩৮৬৭৬৩৭৮। ফাতেমা জান্নাত মৌরি একই গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ভোটার নং-৮৯০৫৭১০০০১৫১। সিরিয়াল নং-০৮১২।জাতীয় পরিচয়পত্র নং-(স্থানান্তরকৃত) ৬৮৮৩৩০৭৮১৮।নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারী তারিখে জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানান্তর দেখান।তবে স্থায়ী ঠিকানা শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বরুয়াজানী গ্রাম যা নির্বাচন কর্মকর্তা জন কেনেথ জামবিল নিশ্চিত করেছেন।এদিকে দুই শিক্ষিকার স্বামীর ঠিকানাও জানা গেছে। তাহিরা খানম রুম্মানের স্বামীর বাড়ী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় আর ফাতেমা জান্নাত মৌরির স্বামীর বাড়ী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়।অথচ তাহিরা খানম রুম্মান প্রকৃত স্থায়ী/স্বামীর ঠিকানা আড়াল করে চাকরি নেন হালুয়াঘাটের ৭নং শাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্টা নয়াপাড়া গ্রামের পরিচয়ে ও ফাতেমা জান্নাত মৌরি হালুয়াঘাট পৌরসভার হালুয়াঘাট বাজার পূর্ব এই ঠিকানা দেখিয়ে।এ ক্ষেত্রে তৈরি করেন জাল নাগরিকত্ব সনদ।সনদে স্বাক্ষর দেখান তৎকালীন ইউপি সদস্য মামুন আর চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের। আর ফাতেমা জান্নাত মৌরি হালুয়াঘাট পৌর মেয়র খাইরুল আলম ভুঞার স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব সনদ দেখিয়ে চাকরির আবেদন করেন।এদিকে স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউপি সদস্য মামুনসহ চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন।তবে এ বিষয়ে পৌর মেয়র খাইরুল আলম ভুঞা বলেন, হালুয়াঘাট পৌরসভায় জমির কাগজ দেখানোয় ফাতেমা জান্নাত মৌরিকে নাগরিকত্ব সনদ দেয়া হয়েছে। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা কোথায় তা বলতে পারবোনা। একাধিক সুত্রে জানা যায়, এ জালিয়াতির কাজে সহযোগীতা করেন শিক্ষিকার বোন জামাতা ভাট্টা নয়াপাড়া গ্রামের এখলাস উদ্দিন মাষ্টার।তাহিরা খানম রুম্মানের বিষয়ে জানতে চাইলে বাট্টা নয়াপাড়া গ্রামের অপর আরেক এখলাস উদ্দিন মাষ্টার বলেন, জানামতে তাহিরা খানম রুম্মান নামে কোনো ব্যক্তি শাকুয়াই ইউনিয়নে নেই। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে এই নামে কোনো ব্যক্তি নেই। ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, ৭নং শাকুয়াই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউপি সদস্য মামুনের স্বাক্ষর জাল করে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ দেখিয়ে তাহিরা খানম রুম্মান তৈরি করেন ভুঁয়া নাগরিকত্ব সনদ।স্বাক্ষর জালিয়াতীর কথা বলেন তৎকালীন শাকুয়াই ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন নিজেও।মামুন বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে ভুঁয়া নাগরিকত্ব তৈরি করেছেন এই শিক্ষিকা। বাহিরশিমুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের নিয়োগ আদেশ পাওয়ায় শিক্ষিকার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি।অফিস আদেশ মূলে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তাহিরা খানম রুম্মান। এদিকে শাকুয়াই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনুস আলী লিখিতভাবে জানান, তাহিরা খানম রুম্মান নামে শাকুয়াই ইউনিয়নে কোনো নাগরিক নেই।চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষিকা নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা।অপরদিকে কাকরকান্দী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসার বলেন, তাহিরা খানম রুম্মান নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দী ইউনিয়নের বরুয়াজানী গ্রামের আমির হোসাইন খানের কন্যা। তিনি লিখিত প্রতায়নপত্রও প্রদান করেন এই প্রতিবেদককে। তৎকালীন শাকুয়াই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, স্বাক্ষর জাল করে তার ইউনিয়নের বাসিন্দা দাবী করে ভুঁয়া নাগরিকত্ব সনদ বানিয়ে চাকরি নেন শিক্ষিকা। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাহিরা খানম রুম্মান ও ফাতেমা জান্নাত মৌরি।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিউল হক বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্তে প্রমান পেলে তাদের দুজনেরই নিয়োগ বাতিলসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।হালুয়াঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মুঞ্জুরুল হক জুয়েল বলেন, দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধেই তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে সত্যটা পাওয়া গেছে। খুব শীগ্রই লিখিত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হবে। ###

Shares