আজ সোমবার , ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

ইকোপার্কে বেড়াতে গিয়ে খালু কর্তৃক ভাগ্নী ধর্ষণের শিকার শ্রীবর্দীতে পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু মেয়ের খুনের বিচার চাইলেন বাবা বাউফলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নালিতাবাড়ীতে বন্য হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আজম, সম্পাদক মজিবর নালিতাবাড়ীর নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নিখোঁজ শিক্ষার্থী উদ্ধার নালিতাবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত দলিল প্রতি অতিরিক্ত ফি ১০ হাজার টাকা। প্রতিবাদে ধোবাউড়ায় সংবাদ সম্মেলন রামচন্দ্রকুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা: সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, আহত হালুয়াঘাটে গাছের সাথে শত্রুতা হালুয়াঘাটে আরও ২৯ জন ভূমিহীনকে জমিসহ ঘর প্রদান ময়মনসিংহে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক। প্রধান মন্ত্রীর উপহার চান ভাগ্য বিড়ম্বিত বিধবা রেনুবালা! ২৫ বৎসরেও হয়নি বিলকিছের প্রতিবন্ধী ভাতা

প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে আর কত দিন ভিক্ষা করবেন বিধবা শহর বানু

প্রকাশিতঃ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ | আগস্ট ৩১, ২০২০ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ১৫২ বার

অনলাইন ডেস্কঃ মা–বাবার কাছে আশ্রয় মেলেনি প্রতিবন্ধী শিশুটির। দরিদ্র বিধবা দাদিই এখন তাঁর একমাত্র সহায়। তবে যে উপায়ে দাদি তাকে বাঁচিয়ে রাখছেন, সে উপায়টি মোটেও সম্মানজনক নয়। দাদি ভিক্ষা করে দুজনের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তিন বছর ধরে এভাবেই দিন চলছে দাদি–নাতির। এখন দাদির ওপরও ক্লান্তি এসে ভর করেছে। আর কত দিন এভাবে ভিক্ষা করে দিন কাটাবেন তিনি? প্রতিবন্ধী শিশুটির নাম মো. আসাদুল। তার বয়স সাত বছর। সে শারীরিক, বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। আসাদুল শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দিনমজুর মো. রুবেলের ছেলে। আসাদুলের বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা রাশেদা বেগম ঢাকার এক বাসায় ছেলেকে রেখে চলে যান। তিনি আর ছেলের খোঁজ করেননি।
পরে আসাদুলের চাচি নুরেছা বেগমের সহযোগিতায় বাবা রুবেল ছেলেকে ঢাকা থেকে নকলার রামপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। রুবেল ছেলেকে মা শহর বানুর (৫৭) কাছে রেখে যান। সেই থেকে আসাদুল দাদি শহর বানুর কাছে থাকে। নাতি ও নিজের জীবনযাপনের জন্য তাঁকে নির্ভর করতে হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর।
শহর বানুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসাদুলের বাবা ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। স্ত্রী রাশেদার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। দাদি শহর বানুই এখন আসাদুলের একমাত্র আশ্রয়স্থল। শহর বানু রামপুর এলাকায় তাঁর বাবার সামান্য জমিতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরে নাতি আসাদুলকে নিয়ে থাকেন। শহর বানু নিজেও অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। তারপরও প্রতিবন্ধী নাতিকে কোলে নিয়ে সারা দিন ভিক্ষা করেন। সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে রান্না করে নিজে খান, নাতিকে খাওয়ান। বললেন, ‘এভাবে জীবন যেন আর চলে না।’
শহর বানু বলেন, ‘জন্ম থাইক্যাই নাতি আসাদুলের শরীরে সমস্যা। দাঁড়াইতে ও কথা বলতে পারে না। একা চলবার পায় না। সাত বছর বয়স হইলেও বুদ্ধি নাই। নাতিরে নিয়া ভিক্ষা কইরা যা পাই, তাই দিয়াই জীবন চালাই। নিজের শরীর ভালো না। তাই নাতিরে কোলে নিয়া ভিক্ষা করতে খুব কষ্ট হয়। সরকার থাইক্যা আমার আর নাতির নামে দুইটা কার্ড (বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা) কইরা দিলে, নাতির জন্য একটা হুইলচেয়ার দিলে অনেক উপকার হইত।’ দাদি শহর বানু জানান, রান্না ও গোসলসহ অন্যান্য কাজের সময় প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ছোট একটি গর্তে রেখে যান তিনি। কারণ আসাদুল একা বসে থাকতে পারে না। বিছানায় শোবার সময়ও তাকে ধরে রাখতে হয়। তা না হলে বিছানা থেকে সে পড়ে যায়।

Shares