আজ শুক্রবার , ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

বাউফলে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের প্রতিবাদে মানববন্ধন বাউফলে ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ হালুয়াঘাটে ব্যতিক্রমীভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন মুক্তাগাছায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৭ জনের মৃত্যু মুক্তাগাছায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৭ জনের মৃত্যু বাউফলে আড়াই মাসে ৩ খুন,আইন শৃংখলার চরম অবনতি শ্রুতিমধুর নয় এমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ বাউফলে দুই সন্তানের জনকের লাশ উদ্ধার চোরাবালিতে প্রাণ গেলো দুই যুবকের সিনহা নিহতের ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২২ মাস পর টেকনাফ স্বাধীন হলো নিহত যুবলীগ নেতা রুমানের আবেগঘন স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড় যুবলীগনেতা ও সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় বাউফলে আ’লীগ নেতাকে বহিঃস্কার বাউফলে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, অতিষ্ঠ জনজীবন হালুয়াঘাটে বর্নাকবলিত এলাকায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতার ত্রাণ বিতরণ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে একদিন

প্রকাশিতঃ ৫:৩২ অপরাহ্ণ | জুন ০১, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২৬০ বার

ওমর ফারুক সুমনঃ প্রাকৃতিক রহস্যময় সৃষ্টিগুলোর মধ্যে সমুদ্র অন্যতম। বিশাল সমুদ্রের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অপার রহস্য ও বিস্ময়। এই সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে বিস্তৃত বালুকারাশি, নুড়ির প্রবাল আর ঢেউয়ের দোলায়। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরো দক্ষিণ উপকূল জুড়ে সমুদ্রসৈকত থাকলেও দুটি সৈকত বিখ্যাত। এর একটি হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এবং অপরটি হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিস্ময়কর স্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। তাই ভ্রমণপিপাসু ও সৌন্দর্যপ্রেমিক মানুষের কাছে কুয়াকাটা সৈকতই প্রথম পছন্দ। পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এ পাদভূমি সারা বছরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। অপরদিকে সৌন্দর্য পিপাসু দুরন্ত মনে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র দর্শনের প্রবল ইচ্ছা ছিল। গল্প, কবিতা, উপন্যাসে সমুদ্রতট সম্পর্কে পড়ে শিক্ষকদের রোমাঞ্চিত বর্ণনা শোনার পর সমুদ্রের বিশালতা সম্পর্কে আমার কিশোর মনে নানা রকম কল্পনা সারাক্ষণ দোলা দিয়ে যেত। আমার কল্পনার চক্ষু সারাক্ষণ খুঁজে বেড়াত মহাসমুদ্রের দীর্ঘ সৈকত, আর বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, চোরাবালির ভয়ঙ্কর ফাঁদ, দূর সমুদ্রের গর্জন, নীল সমুদ্রের হাতছানি আরও কত কী! এসবই আমার মনে কল্পনার ফানুস উড়িয়ে আমাকে সমুদ্র ভ্রমণে উৎসাহিত করেছিল।

সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য: কক্সবাজারের সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য একনজর দেখার জন্য প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এ সময় চারিদিকে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভায় নীল সমুদ্র আর সূর্যের লুকোচুরি খেলার দৃশ্য যে কারো জন্যই স্মরণীয় মুহূর্ত। এ সময়ের দৃশ্যাবলী ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। বিশাল থালার মতো লাল সূর্য চোখের সামনে সমুদ্রবক্ষে হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের চেয়ে সুন্দর কিছু যেন আর নেই।

বিকেলের সূর্যাস্তের দৃশ্য: কক্সবাজার পৌছেই আমরা সমুদ্র তীরবর্তী রেস্টহাউজ ও পর্যটন হোটেলে গিয়ে বিকালের হালকা নাস্তা ও চা পান করে শরীরটা চাঙ্গা করে নিলাম। তারপর কাকডাকা বিকেলের পাখির কিচিরমিচির শব্দের মধ্য দিয়েই সকালে সূর্যাস্ত দেখার জন্য সমুদ্রের উপকূলের দিকে এগোলাম। এ সময় সকালের মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া আমাদের মনকে রোমাঞ্চে ভরিয়ে দিল। আমি যখন কল্পনার সাথে বাস্তবের মিল খোঁজার চেষ্টা করছি ঠিক তখনই লক্ষ্য করলাম পশ্চিমাকাশে কক্সবাজারের সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য একনজর দেখার জন্য প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এ সময় চারিদিকে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভায় নীল সমুদ্র আর সূর্যের লুকোচুরি খেলার দৃশ্য যে কারো জন্যই স্মরণীয় মুহূর্ত। এ সময়ের দৃশ্যাবলী ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। বিশাল থালার মতো লাল সূর্য চোখের সামনে সমুদ্রবক্ষে হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্যের চেয়ে সুন্দর কিছু যেন আর নেই।
দুপুরের রৌদ্রভরা নীলাকাশ: পরদিন দুপুর বেলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের উপকূলে দেশি-বিদেশি বিচিত্র মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পৃথিবীর জল ও স্থলভাগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে আমি অপার বিস্ময়ে মুগ্ধ নয়নে সৈকতের তীরে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউয়ের দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি। দুপুর বারোটায় দলের সবাই সমুদ্রস্নানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ ফুটবল খেলা ও বালু মাখামাখি করে সময়টাকে উপভোগ করে। আমরা সবাই কিছু নুড়ি পাথর ও সামুদ্রিক শামুক কুড়িয়ে সমুদ্রস্নান সেরে নিলাম।
বিকালের রোমান্টিকতা: বিকেলে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে পড়ন্ত রোদে সৈকতের পথে হাঁটতে বের হলাম। এ সময় চারপাশের ছবি তুলে আর শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে আমরা কিছুটা সময় পার করলাম। বিকেলে বালুর উপর চিকচিক রোদ এবং দর্শনার্থীদের বৈচিত্রতা আমার হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে গেল। এমন সময় পুব আকাশে সাতটি রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে বিশাল রঙধনু আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে যেন আমাদের বরণ করে নিল। তখন আমার মন গেয়ে উঠলো- ‘কী সুন্দর মালা আজি পরিয়াছ গলে।’

উপসংহার: স্মৃতি মানুষকে তাড়া করে ফেরে। আর সেই স্মৃতি যদি হয় আনন্দ আর বেদনামিশ্রিত তাহলে তা হৃদয়ে স্থায়ী দাগ কেটে যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত মাত্র একদিনে আমার মনে যে গভীর ভাবাবেগ সৃষ্টি করে তা সত্যিই বিস্ময়কর। সমুদ্র তার নান্দনিক সৌন্দর্য দিয়ে মানুষের মনকে সব সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার থেকে পরিশুদ্ধ করে কর্মক্লান্ত হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়। সমুদ্র মানুষকে উদারতা, কোমলতা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ আমার স্মৃতিতে, আমার হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

 

Shares