আজ সোমবার , ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

এম্বুলেন্সে করে মাদক পাচারকালে ২৪০ বোতল ভারতীয় মদসহ একজন আটক এমপি মাহমুদুল হক সায়েমকে সি.আই.পি শামিমের সংবর্ধনা হালুয়াঘাটে ঈদে বাড়ি ফেরার পথে লাশ হল স্বামীসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হালুয়াঘাটের স্থলবন্দর দিয়ে ২৭টি পণ্যের আমদানী রপ্তানীর পরিকল্পনা-এমপি সায়েম হালুয়াঘাটে ২৭ হাজার দুস্থ অসহায় পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ১৩ বছর পর পদত্যাগ করলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হালুয়াঘাটে ফেইসবুক গ্রুপে কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতা। পুরস্কার বিতরণ ‘কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণকেশীর ‘বেহিসেবি রঙ.. হিমাদ্রিশেখর সরকার হালুয়াঘাট থেকে ফুলপুর পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা নির্মাণসহ সড়ানো হচ্ছে অস্থায়ী বাস কাউন্টার জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে থাকবে-প্রিন্স ডামি নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে আইসিইউতে পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ-প্রিন্স বাজারে পণ্যের অগ্নিমূল্যের তাপ তাদের গায়ে লাগেনা-প্রিন্স নালিতাবাড়ীতে প্রেসক্লাবের নির্বাচন, সভাপতি সোহেল সম্পাদক মনির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে-বিএনপি নেতা প্রিন্স হালুয়াঘাটে বিএনপি নেতা প্রিন্স’র লিফলেট বিতরণ

৭৭ বছর বয়সেও করতে হচ্ছে ভিক্ষা

প্রকাশিতঃ ৪:২৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৭, ২০২১ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৩৬৪ বার

ওমর ফারুক সুমনঃ বিধবা রেনুবালা। বয়স ৭৭ বছর। ৪১ বছর যাবত বিধবা। বাড়ী ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামে। তবে কুমুরিয়াতে বর্তমানে কোনো জায়গা জমি নেই। ভূমিহীন ও গৃহহীন দুটোই রেনুবালা। একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নাম গোপাল চন্দ্র সরকার (৪৫)। সেও প্যারাইলাইসেস রোগী। শরীরের এক পাশ অচল। অক্ষম। পরের জমিতে থাকেন। এক এক সময় এক এক জায়গায়। তাও আবার বেশিদিন এক জায়গায় থাকার ভাগ্যে জুটেনা। তাড়ানি খেয়ে নতুন করে আশ্রয় খোজতে হয় তাকে। ভিক্ষা করে সংসার চলে রেনুবালার। স্বামী যোগেশ চন্দ্র সরকার ১৯৮০ সালে মারা যান। বিধবা রেনুবালার একদিন সবই ছিল। লাল শাড়ি পরে বধূ সেজে স্বামীর সংসারে পা রেখেছিলেন। সুখ-দুঃখের দোলাচলে রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন কতদিন। স্বামী সর্বশেষ ৭০ টাকা মাসিক বেতনে হালুয়াঘাট সেন্ট এন্ড্রোস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। স্বামী যোগেশ চন্দ্র সরকারের সান্নিধ্যে রেনুবালা যখন সংসার গোছাতে লাগলো, বিধিবাম দুরারোগ্য ব্যধিতে অকালেই যোগেশ চন্দ্র সরকার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বামীর চিকিৎসায় সামান্য জমি-জমা হাতছাড়া করে হয়ে পড়েন নিঃস্ব। স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় রেনুবালার ঘাড়ে ওঠে ঋণের বোঝা। শুরু হয় কায়িক পরিশ্রম। বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজ করানোর সুবাদে সবাই আদর-স্নেহও করতো। একপেট খাবার দিয়ে আদায় করে নিতো গৃহস্থালির নিত্যদিনের কাজ। কায়িক ও পারিবারিক পরিশ্রমে রেনুবালা দিন দিন দুর্বল হতে থাকে। এভাবে কাটিয়ে দেয় প্রায় চার যুগ। ভিটে বাড়ী হারিয়ে তিন যুগের অধিক সময় ধরে ঠিকানাবিহীন চলছে এই নারীর সময়। যদি কেউ দয়া করে আশ্রয় দেয় সেখানেই হয় মাথা গোজার ঠাঁই। প্রতিবন্ধী ছেলেকে সাথে নিয়ে ভিক্ষে করে চলে সংসার। জানা যায়, উপজেলার রঘূনাথপুর এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ তার পরিত্যক্ত ভিটায় আশ্রয় দিয়েছেন। এ বিষয়ে আব্দুল হামিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে, ভিটে বাড়িহীন প্রায় ৮০ বছর বয়সী একজন মহিলার অসহায়ের কথা ভেবেই আমি আশ্রয় দিয়েছি। তার জন্যে একটা গৃহের খুবই প্রয়োজন। স্থায়ী একটি আবাসনের ব্যবস্থা হলে শেষ সময়টা অন্তত একটু শান্তি পেতো। জীবন ছায়াহ্নে এসে বিধবা রেনুবালার হবে একটু মাথা গোজার ঠাঁই এমনটাই চাওয়া সচেতন মহলের।

Shares