আজ রবিবার , ২২শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মেয়রের আহব্বান বাউফলে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত বাউফলে প্রায়তঃ শিক্ষকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত আত্মহত্যার পরও সূদের টাকার জন্য ফোন! ত্রিশালে সড়ক দূরঘটনায় একজন নিহত চার জন আহত ত্রিশালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত আমতলীতে মাদ্রাসা মাঠে ধান চাষ বরগুনায় ১০ দোকান পুড়ে ছাই হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চান পরিবার আইপিএলে ,নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার ত্রিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শাহ্ আহসান হাবীব বাবুর জন্ম দিন পালন বরগুনায় সেরা সম্পাদককে সংবর্ধনা বরগুনা বেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি আটক ত্রিশালে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সড়ক উদ্বোধন ত্রিশালে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

একাধিক নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন ফটো সংবাদিক শহিদুল

প্রকাশিতঃ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৭, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৩১৪ বার

অনলাইন ডেস্ক,

সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেওয়া এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রের দায়ে ফটোসাংবাদিক এবং দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার চরিত্র স্খলনজনিত বিভিন্ন তথ্য।

জানা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নানা অপকর্মে জড়ানোর পাশাপাশি শহিদুল আলম ছিলেন অত্যন্ত নারী লোলুপ একজন ব্যক্তি। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ব্যবহৃত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার অনুসন্ধান করে মিলেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সূত্র বলছে, শহিদুল আলমের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ঘেটে দেখা গেছে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর বিভিন্ন টেক্সট, ছবি আদান-প্রদান করেছেন। তার মধ্যে একজন নারী যিনি শিল্পকলা একাডেমি ও উদীচী শিল্পগোষ্ঠী’র মতো একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই নারীর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। দীর্ঘদিন হলে তিনি ঢাকায় থাকেন। ওই নারীর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য আর কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, ফটো সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি তার প্রতিষ্ঠান দৃক- এ কাজের সুযোগ করে দেয়ার নামে বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। নারী সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভুলিয়ে তাদের সুযোগ নিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত নেত্রকোণার ওই নারী স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। আমিও তার কথা মতো চলতে থাকি। পরে তিনি আমাকে অবৈধ সম্পর্কে বাধ্য করে। যদিও চাকরিটা আমি এখনো পাইনি।

প্রসঙ্গত, তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারসহ একাধিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান করেছেন। সেগুলো এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তগত রয়েছে বলে জানা যায়।

কে এই শহীদুল আলম
বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলম শিশু শিক্ষার্থীদের সড়ক আন্দোলনে উস্কানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), পেন ইন্টারন্যাশনাল, দক্ষিণ এশিয়া মিডিয়া ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্ক (সামডেন) সহ গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম তার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার সাম্প্রতিক এক লেখায় শহিদুল আলমের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, শহিদুল আলম বিশ্বের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় চিত্রগ্রাহকদের একজন। বাংলাদেশে এই পেশায় তার মতো বৈশ্বিক মর্যাদা খুব কম লোকই পেয়েছেন।বিশ্বের সব বড় বড় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার ছবি ছাপা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে নানা অ্যাসাইনমেন্টের কাজে তাকে নিয়মিত নিয়োগ দিয়ে থাকে খ্যাতনামা সব প্রকাশনা। লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান তার গ্রেপ্তারের সংবাদে লিখেছে, নিজের চারদশকব্যপী ক্যারিয়ারে শহিদুলের ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিন ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকসহ প্রত্যেক খ্যাতনামা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম লিখেছেন, দেশের ফটোসাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব আনয়নে আর যে কারও চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছেন শহিদুল আলম। তার হাতে প্রশিক্ষিত হয়েছেন শ’ শ’ ফটোসাংবাদিক। নিজের ব্যক্তিগত উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে তিনি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এই পেশায় আকৃষ্ট করেছেন। আজ যে বহু বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিক বৈশ্বিক প্রকাশনায় নিজের ছবি ছাপানো কিংবা আন্তর্জাতিক পদক লাভের বাসনা লালন করেন, তার কারণ সম্ভবত কেবল তিনিই।

শহিদুল পদকজয়ী ফটোএজেন্সি দৃক প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘পাঠশালা’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রখ্যাত ফটোগ্রাফি স্কুল। এই স্কুলে পড়তে বিদেশ থেকে শিক্ষার্থী ও অতিথি শিক্ষকরা আসেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট ও সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দৃক ও পাঠশালা – দুই প্রতিষ্ঠানই তিনি গড়েছেন নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে।

তার সবচেয়ে সফল সৃষ্টি হলো ছবি মেলা। এই আন্তর্জাতিক চিত্রপ্রদর্শনীতে বিশ্বের সব জায়গা থেকে কাজ জমা পড়ে। অংশ নিতে ঢাকায় আসেন বিশ্বের সেরা সব ফটোগ্রাফাররা। ২০০০ সালে শুরু হওয়া এই চিত্রপ্রদর্শনীর প্রথম থিম ছিল ‘যেই যুদ্ধ আমরা ভুলে গেছি।’ এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে সবচেয়ে সফল চিত্রপ্রদর্শনীর একটি।

১৯৮৩ সালে তিনি হার্ভে হ্যারিস ট্রফি জেতেন। ১৯৯৩ সালে তথ্যচিত্রের জন্য জিতে নেন মাদার জোন্স পদক। ‘৯৮-এ তিনি আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক ফাউন্ডেশন ও হাওয়ার্ড চ্যাপনিক অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক ও ২০১৭ সালে চীনের ডালি ইন্টারন্যাশনাল চিত্রপ্রদর্শনীতে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। এই বছর তিনি পান লুসি ফাউন্ডেশন হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড।

চিত্রগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি তিনি লেখক, কিউরেটর ও অ্যাক্টিভিস্ট। ২০০৭ সালে তিনি কাশ্মীরের ভূমিকম্প নিয়ে ‘নেচার’স ফিউরি’ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এইচআইভি/এইডস নিয়ে ‘পোর্ট্রেইট অব কমিটমেন্ট’ শীর্ষক দুটি বই লিখেন। তার লেখা বই ‘মাই জার্নি অ্যাজ অ্যা উইটনেস’ সম্পর্কে লাইফ ম্যাগাজিনের সাবেক পিকচার এডিটর জন মরিস লিখেছেন, কোনো চিত্রগ্রাহকের লেখা সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই এটি।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে পিএইচডি আছে তার। যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউসিএলএ) তিনি ভিজিটিং প্রফেসর। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি লেকচারার ছিলেন।

Shares