আজ বুধবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

নালিতাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন হালুয়াঘাটে নকল স্বর্ণ বিক্রি করায় এক প্রতারককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ অসুস্থ পিতা-মাতার ভরসা চা বিক্রেতা বাক প্রতিবন্ধী ‘মনিষা’ নালিতাবাড়ীতে ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা হালুয়াঘাটে ৯০ পিচ ইয়াবাসহ আটক -০২ হালুয়াঘাটে নারী কৃষকদের জন্য কারিতাস’র আয়োজনে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ী আ’লীগের সভাপতি মোস্তফা সম্পাদক ওয়াজ কুরুণী অবৈধ বালু উত্তোলন। নালিতাবাড়ীতে ১০ ড্রেজার ধ্বংস নালিতাবাড়ীতে নানা আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে অপহরণ নাটক নালিতাবাড়ীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে ঘোষ গ্রহণের অভিযোগ ব্যর্থতা স্বীকার করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে-প্রিন্স হালুয়াঘাটে ভারতীয় মদসহ আটক-৩ হালুয়াঘাটে শিশুকে বেধড়ক পিটুনি। শিক্ষক আটক

প্রধান মন্ত্রীর উপহার চান ভাগ্য বিড়ম্বিত বিধবা রেনুবালা!

প্রকাশিতঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৯, ২০২২ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ১৭৫ বার

ওমর ফারুক সুমনঃ বিধবা রেনুবালা। বয়স ৭৭ বছর। ৪১ বছর যাবত বিধবা। বাড়ী ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামে। তবে কুমুরিয়াতে বর্তমানে কোনো জায়গা জমি নেই। ভূমিহীন ও গৃহহীন দুটোই রেনুবালা। একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নাম গোপাল চন্দ্র সরকার (৪৫)। সেও প্যারাইলাইসেস রোগী। শরীরের এক পাশ অচল। অক্ষম। পরের জমিতে থাকেন। এক এক সময় এক এক জায়গায়। তাও আবার বেশিদিন এক জায়গায় থাকার ভাগ্যে জুটেনা। তাড়ানি খেয়ে নতুন করে আশ্রয় খোজতে হয় তাকে। ভিক্ষা করে সংসার চলে রেনুবালার। স্বামী যোগেশ চন্দ্র সরকার ১৯৮০ সালে মারা যান। বিধবা রেনুবালার একদিন সবই ছিল। লাল শাড়ি পরে বধূ সেজে স্বামীর সংসারে পা রেখেছিলেন। সুখ-দুঃখের দোলাচলে রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন কতদিন। স্বামী সর্বশেষ ৭০ টাকা মাসিক বেতনে হালুয়াঘাট সেন্ট এন্ড্রোস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতেন। স্বামী যোগেশ চন্দ্র সরকারের সান্নিধ্যে রেনুবালা যখন সংসার গোছাতে লাগলো, বিধিবাম দুরারোগ্য ব্যধিতে অকালেই যোগেশ চন্দ্র সরকার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বামীর চিকিৎসায় সামান্য জমি-জমা হাতছাড়া করে হয়ে পড়েন নিঃস্ব। স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় রেনুবালার ঘাড়ে ওঠে ঋণের বোঝা। শুরু হয় কায়িক পরিশ্রম। বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজ করানোর সুবাদে সবাই আদর-স্নেহও করতো। একপেট খাবার দিয়ে আদায় করে নিতো গৃহস্থালির নিত্যদিনের কাজ। কায়িক ও পারিবারিক পরিশ্রমে রেনুবালা দিন দিন দুর্বল হতে থাকে। এভাবে কাটিয়ে দেয় প্রায় চার যুগ। ভিটে বাড়ী হারিয়ে তিন যুগের অধিক সময় ধরে ঠিকানাবিহীন চলছে এই নারীর সময়। যদি কেউ দয়া করে আশ্রয় দেয় সেখানেই হয় মাথা গোজার ঠাঁই। প্রতিবন্ধী ছেলেকে সাথে নিয়ে ভিক্ষে করে চলে সংসার। জানা যায়, উপজেলার রঘূনাথপুর এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ তার পরিত্যক্ত ভিটায় আশ্রয় দিয়েছেন। এ বিষয়ে আব্দুল হামিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে, ভিটে বাড়িহীন প্রায় ৮০ বছর বয়সী একজন মহিলার অসহায়ের কথা ভেবেই আমি আশ্রয় দিয়েছি। তার জন্যে একটা গৃহের খুবই প্রয়োজন। স্থায়ী একটি আবাসনের ব্যবস্থা হলে শেষ সময়টা অন্তত একটু শান্তি পেতো। জীবন ছায়াহ্নে এসে বিধবা রেনুবালার হবে একটু মাথা গোজার ঠাঁই এমনটাই চাওয়া সচেতন মহলের।

Shares