আজ রবিবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

রিফাত হত্যা রায় ৩০ সেপ্টেম্বর ! মিন্নির সাজা হবে কি? টাংগাইল সদরের (বুরো এনজিও) কর্মকর্তা খুন। মতলব উত্তরে আধুনিক প্রযুক্তিতে বীজ উৎপাদন সংরক্ষনে মাঠ দিবস অনুষ্টিত টাংগাইলে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিটন কে কুপিয়ে হত্যা চেস্টা। টাংগাইলে চতুর্থ শ্রেণির (১০) এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা। রাঙ্গাবালীতে বিয়ের প্রতিশ্রæতিতে প্রতারণার অভিযোগ, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হালুয়াঘাটে বিজিবি’র পিটুনিতে আহত-১ প্রশ্নবিদ্ধ টি.এইচ.ও ডা. সোহেলী শারমিন! কোটি টাকার দূর্ণীতির নেপথ্যে–? হালুয়াঘাটে নারী সোর্স সুমিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ বাউফলে এক ব্যক্তির চোখ উৎপাটন হালুয়াঘাটে সুমী’র অপকর্ম ফাঁস! প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮২৭ রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের স্বঘোষিত সভাপতির হুমকিতে ৫ সাংবাদিক এলাকাছাড়া করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু মসজিদে এসি বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২৮

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও হত্যার অভিযোগে মামলা

প্রকাশিতঃ ১০:৫২ অপরাহ্ণ | জুন ১৯, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২০১ বার

মো: মঞ্জুরুল আহসান, নালিতাবাড়ী(শেরপুর) সংবাদদাতাঃ  শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণ ও ভ্রুন হত্যার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্ত্রীর অধিকার বঞ্চিত এক নারী। পুলিশ সদস্য রাজিবুল হাসান মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
মামলার অভিযোগে প্রকাশ, নালিতাবাড়ীর ফুলপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র রাজিবুল হাসান নালিতাবাড়ী পৌরশহরের সিটপাড়া মহল্লায় নিজের খালার বাসায় ছুটিতে এসে যাতায়াত করতো । রাজিবুল হাসান তার আপন খালাতো বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে তুলে । রাজিবুলের অবৈধ মেলামেশায় তার খালাতো বোন গর্ভবতী হয় । ৬ মাসের অন্তসত্বার পর বিষয়টি পারিবারিক ভাবে জানাজানি হয়। পরে মেয়ের বাবা মামলা করার উদ্যোগ নেয় । কিন্ত পুলিশ সদস্য রাজিবুল ও মেয়ের মামা সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মর্কতা ডক্টর আব্দুল আউয়াল মামলা থেকে নিজের বোনের পুত্র কে রক্ষা করার জন্য ২০১৭ সালের ১৫ জুন সামান্য দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিবাহ রেজিস্ট্রি করিয়ে দেন। রাজিব তার সদ্যবিবাহিত স্ত্রী কে নিজ বাড়ি নিয়ে যায় । বোন মর্জিনা বেগম, নাজমা বেগম ও বোনজামাই ফিরুজ মিয়া ও মামুন মিয়া এবং মা রেজিয়া বেগমকে নিয়ে ওইদিন সন্ধ্যা রাতে সদ্যবিবাহীত স্ত্রীর নিকট রাজিবুল ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে । যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় সকলে মিলে বেধরক মারপিট করে এবং দ্রুত ময়মনসিংহের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। চিকিৎসার কথা বলে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটায় । স্ত্রীকে ক্লিনিকে রেখে রাজিব কর্মস্থলে চলে যায় । ক্লিনিক থেকে রাজিবুলের পরিবারের সদস্যরা তার স্ত্রীকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকেই রাজিবুল তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ওই নারী পুলিশ সদস্যের বাড়ি সহ তার আত্মীয় স্বজনের কাছে বার বার দ্বারস্থ হলেও কেউ তাকে কোন প্রকার সমাধান দেননি।
এ ব্যাপারে ওই মেয়ের পিতা আইনি পদক্ষেপ কেন নেননি জানতে চাইলে বলেন- মামলা করতে চেয়েছি মেয়েকে বলেছি কিন্ত ; কাবিন নামার সাক্ষী পুলিশ সদস্যের মামা ও মিমাংসাকারী একজন সরকারী কর্মকর্তা ডক্টর আব্দুল আউয়াল মামলা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে । মেয়েটির পিতার কথামতো ডক্টর আব্দুল আউয়াল বলেন, আমাদের ভাগ্নে-ভাগ্নীর সমাধান আমরা দিয়েছি । আমরাই এর সুরাহা করবো আপনার কোন প্রয়োজন নেই। অবশেষে অধিকার বঞ্চিত নারী আপন স্বজনের দ্বারা প্রতারিত হয়ে স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে দীর্ঘ ১ বছর পর গত ১৮ জুন পুলিশ সদস্য রাজিবুল হাসান ও বোন ,ভগ্নিপতি ও তার মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে ন্যায় বিচারের আশায় মামলা করেছেন । আদালত মামলাটি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন । আমি পিতা হিসেবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে ন্যায় বিচার চাই ।
এ ব্যাপারে গত ১৭ জুন ২০১৮ তারিখে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেনের বাসায় এক সালিসী বৈঠক বসে। সালিসী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মেয়েকে যদি পুলিশ সদস্য মেনে নেয় তাহলে মেয়ের বাবার নগদ ১৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আর মেয়েকে যদি তারা না রাখে তবে মেয়েকে ৬ লক্ষ টাকা নগদ দিতে হবে। বিচারক মোশারফ হোসেন বলেন, উল্লেখিত সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন ডক্টর আব্দুল আউয়াল। আমি আব্দুল আউয়ালের ফোনে এসে সালিসী বৈঠকে বসি। কিন্তু আমি কোন সিদ্ধন্ত দেয়নি। এই ঘটনায় ডক্টর আব্দুল আউয়ালের ০১৯১৫৭৮৭৩৩৩ ও ০১৭১৩৫১৬২১৭ মোবাইল নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করেও কথা বলা যায়নি।
পুলিশ সদস্য রাজিবুল হাসান এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তমুলক। আমার মামারা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার খালাতো বোনকে বিবাহ করতে বাধ্য করে। আমার মামা ডক্টর আব্দুল আউয়াল পরে এর সমাধান করবে বলে আমাকে আশ্ব্বাস  দেয়।

Shares