আজ বৃহস্পতিবার , ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মেয়রের আহব্বান বাউফলে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত বাউফলে প্রায়তঃ শিক্ষকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত আত্মহত্যার পরও সূদের টাকার জন্য ফোন! ত্রিশালে সড়ক দূরঘটনায় একজন নিহত চার জন আহত ত্রিশালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত আমতলীতে মাদ্রাসা মাঠে ধান চাষ বরগুনায় ১০ দোকান পুড়ে ছাই হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চান পরিবার আইপিএলে ,নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার ত্রিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শাহ্ আহসান হাবীব বাবুর জন্ম দিন পালন বরগুনায় সেরা সম্পাদককে সংবর্ধনা বরগুনা বেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি আটক ত্রিশালে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সড়ক উদ্বোধন ত্রিশালে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর কমেছে ‘ক্রসফায়ার’!

প্রকাশিতঃ ১:৫৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০২, ২০২০ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৩৭ বার

ডেস্ক রিপোর্টঃ চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৫ জনের। ৩১শে জুলাই সেই তালিকায় যুক্ত হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের নাম। তবে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার নিহতের ঘটনার পর বাংলাদেশে গত আগস্ট মাসে ‘ক্রসফায়ার-বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা কমেছে। গত মাসে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমলেও আগস্টে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে চলতি বছর প্রথম ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২০৮ জন। আগষ্ট মাসে মাত্র একজনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২রা আগষ্ট রাতে সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুল মান্নান ওরফে মুন্না আহমদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সংস্থাটি বলছে, গত মাসের হিসেব পুরোপুরি জানা না গেলেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে গেছে।

আসকের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই মাসেও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি ছিল বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। জুন মাসে ২৮টি, মে মাসে ২৯টি, এপ্রিলে ১৬টি, মার্চ মাসে ৩৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৬টি এবং জানুয়ারিতে ২৩টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বেশিরভাগই নিহত হয়েছে। গত ৩১শে জুলাই কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনার পর পরই পুরো বাংলাদেশেই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা আশ্চর্যজনকভাবে কমে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী ও মানবাধিকার আইনজীবীরা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমে যাওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, দেশজুড়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে পুলিশের পেশাদারিত্বে প্রশ্ন উঠছে। হঠাৎ করে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশল কিনা এবং ভবিষ্যতে কী হয় সেটা নিয়ে এখনো সংশয় দেখছেন কেউ কেউ।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে জানায়, জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কমেছে। জুলাইয়ে ছিল ৪৫ জন এবং আগস্টে হয়েছেন ১ জন। এছাড়া আগস্ট মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যু, একজনকে নির্যাতন ও সাতজনকে হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে থানাহাজতে একজনের মৃত্যুসহ আটটি ঘটনা ঘটেছিল। মহামারির সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যে দায়িত্ব পালন করছেন তা প্রশংসনীয়। কিন্তু ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে জবাবদিহি অত্যাবশ্যক।

Shares