আজ রবিবার , ২২শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মেয়রের আহব্বান বাউফলে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত বাউফলে প্রায়তঃ শিক্ষকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত আত্মহত্যার পরও সূদের টাকার জন্য ফোন! ত্রিশালে সড়ক দূরঘটনায় একজন নিহত চার জন আহত ত্রিশালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত আমতলীতে মাদ্রাসা মাঠে ধান চাষ বরগুনায় ১০ দোকান পুড়ে ছাই হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চান পরিবার আইপিএলে ,নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার ত্রিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শাহ্ আহসান হাবীব বাবুর জন্ম দিন পালন বরগুনায় সেরা সম্পাদককে সংবর্ধনা বরগুনা বেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি আটক ত্রিশালে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সড়ক উদ্বোধন ত্রিশালে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাউফলে এনজিও’র কিস্তি আদায়ের চাপ, বিপাকে নিন্ম আয়ের মানুষেরা

প্রকাশিতঃ ৭:২৮ অপরাহ্ণ | জুন ২৮, ২০২০ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ১০১ বার

তোফাজ্জেল হোসেন,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ক্ষুদ্রঋণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে এনজিও ঋণের কিস্তি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফলে এই নির্দেশনা কার্যকারিতার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না । বাড়ছে ক্ষুদ্রঋন আদায়ের চাপ। আর এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষেরা। উপজেলায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারি ও অন্যান্য এনজিওগুলো যেমন-গ্রমীন জন উন্নয়ন সংস্থা, ব্রাক, আশা, ব্যুরো বাংলাদেশ, উদ্দীপন, পদক্ষেপ, গ্রমীন, কোডেক, কোষ্ট, টিএমএসএস, ভিডিপি ইত্যাদি সংস্থাগুলো তাদের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ের চাপ শুরু করে দিয়েছেন। এনজিওগুলো তাদের সাপ্তাহিক ও মাসিক ঋণ (কিস্তি) আদায় চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। লকডাউনে যেখানে তিন বেলা খাবার জোটে না সেখানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এনজিও ও সুদ কারবারিরা কিস্তির জন্য চাপ দেওয়া শুরু করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কর্মহীন মানুষেরা । অথচ এসব এনজিওদের এমআরএ নির্দেশনা প্রদান করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে জরুরী খাদ্য বিতরণ করার। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাউফলে এ সব এনজিও’র কাউকেই জরুরী খাদ্য সহায়তা দিতে কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে তাদের খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সরেজমিনে নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামে গ্রমীন জন উন্নয়ন সংস্থা এনজিও’র পদ্মা-৭৯ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ওই এনজিও’র মাঠকর্মী রিপা বেগম সদস্যদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করছেন। এ সময়ে সদস্য রুমানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ অসুস্থ্য থাকার কারনে আমি গত রোববার সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে পারি নাই। কিন্ত মাঠকর্মী রিপা বেগম সকাল থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত আমার ঘরে বসে ছিলেন। এ সময়ে ওই মাঠকর্মী আমাকে নানান কটু কথা বলে মানষিকভাবে হয়রানি করে কিস্তি দেয়ার জন্য চাপ দিলে আমি বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ীর একজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে কিস্তি পরিশোধ করি। একই অভিযোগ করেন ওই কেন্দ্রের মমতাজ, শিল্পী,আলমতাজ ও রাহিমা বেগম। এর আগে একই অভিযোগ করেন গ্রামীনএনজিও,র নাজিরপুর গ্রামের লালমিয়া বাড়ী কেন্দ্রের সদস্য পারভীন বেগম ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ গ্রামের আশা এনজিওর প্রশান্ত কেন্দ্রের সদস্য কুলসুম বেগম।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাঠকর্মী রিপা বেগম বলেন, আমি অফিসের নির্দেশ পালন করছি। কোন সদস্যের কাছ থেকে জোড় করে কিস্তি আদায় করছি না।
করোনা পরিস্থিতিতে এনজিও ও সুদ কারবারিদের কিস্তি আদায়ে চাপ কতটা যুক্তিসঙ্গত তা প্রশ্নবিদ্ধ । কেনোনা করোনা প্রভাবে মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য মন্দ। সাধারণ মানুষ দিশেহারা। আতঙ্কে মানুষ পাড়া মহল্লাহ বের হতে চায় না। সাধারণ মানুষও আগের মতো চলাফেরা করে না। এনজিও’র ঋণের জালে জডড়িত মানুষেরা এসময়ে বিপাকে।
বাউফলে অবস্থিত গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার কালাইয়া শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মঞ্জুর আলম, ‘কাউকে কিস্তি আদায়ে চাপ দেওয়াা হচ্ছে না। তবে যারা সেচ্ছায় কিস্তি দিচ্ছেন তা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে কষকদের কৃষি লোন দিচ্ছি। কিস্তি আদায় না করলে আমারা লোন দেব কিভাবে?
আশা এনজিও’র বাউফল ব্রঞ্চ ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, আমারা জোড় করে কারো কাছ থেকে কিস্তি আদায় করছি না। শুধু সৌজন্যমূলকভাবে তাঁদের সাথে মাঠ কর্মীরা সাক্ষাৎ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, জোড় করে কিস্তি আদায় করছে এমন অভিযোগ এখনও পাইনি। সুনির্দিৃষ্টভাবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র (এমআরএ) এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,সারা দেশে করোনা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন গ্রাহক যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তাদের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ঋণকে নিয়মিত রেখে প্রয়োজনে নতুন ঋণ দিতে হবে।

Shares