আজ শনিবার , ১লা আগস্ট, ২০২০ ইং | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

হালুয়াঘাটে ভারতীয় মদসহ আটক-৩! প্রাইভেটকার জব্ধ সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি! আনন্দ টিভি থেকে এনাম-সোহাগ-মিরাজ বহিস্কার বাউফলে চলাচলের পথে বাঁশের বেড়া, ভোগান্তি এটি সড়ক নাকি ফসলী জমিনের মাঠ হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে ওসি’র মতবিনীময় হালুয়াঘাটে আজ আরও ২ জনের করোনা পজিটিভ হালুয়াঘাটে কুকুরের টানাহেচড়া থেকে নবজাতক উদ্ধার হালুয়াঘাটে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরও ৩ জনের করোনা পজিটিভ ফুলপুরে আক্রোশমূলে যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ মতিয়া চৌধুরীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব হালুয়াঘাটে গরু চোর আটক হালুয়াঘাট পৌর সভায় ২১ কোটি টাকা বাজেট পেশ ময়মনসিংহে নতুন ১২১ জনসহ আক্রান্ত বেড়ে ১৭৭৭ জন করোনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর স্ত্রীর মৃত্যু হালুয়াঘাটে ২৪ ঘন্টায় শিক্ষা অফিসারসহ ২০ জনের করোনা শনাক্ত

মৃত্যুর আগে ভারতীয় সেনা’র শেষ ফোন

প্রকাশিতঃ ৬:০৮ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০২০ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৫১ বার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:২০১৫ সালে ভারতের বীরভূমের সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তে পড়তেই ১৬ নম্বর বিহার রেজিমেন্টে সুযোগ পান রাজেশ। সেই থেকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দেশরক্ষা ও সংসারের ভার।
চাকরি পাওয়ার পরে গ্রামের মাটির বাড়ি ভেঙে তৈরি করেছিলেন একতলা পাকা বাড়ি। বোনকে ভর্তি করেছিলেন ঝাড়খণ্ডের রানীশ্বর কলেজে। অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচারের পর থেকে বাবা কাজ করতে পারতেন না। সংসার চলত রাজেশের রোজগারেই।
বোনকে বলতেন, ‘তোর পড়ার জন্য যা যা দরকার হবে, সব দেব। কিন্তু ভাল ভাবে পড়াশোনা করতেই হবে।’ বাড়ি আসতেন ছ’মাসে এক বার। শেষ বার এসেছিলেন গত সেপ্টেম্বরে, পুজোর সময়ে। সেই বাড়িতেই এসে পৌঁছবে রাজেশের কফিনবন্দি দেহ!
দু’সপ্তাহ আগে বাড়িতে ফোন করেছিলেন দাদা। ঘড়ি ধরে দু’মিনিট কথা হয়েছিল, স্পষ্ট মনে আছে বোন শকুন্তলার। দাদা বলেছিলেন, ‘হাতে মাত্র দু’মিনিট। মা-বাবাকে বলিস, এখন আর ফোন করতে পারব না। আজ থেকে ওপরে ডিউটি আছে। কী হবে জানি না।’
রাজেশ ওরাংয়ের সেটাই শেষ ফোন তার বাড়িতে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টা নাগাদ বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার বেলগড়িয়া গ্রামের ওরাং পরিবারের কাছে ফোন আসে।
লে-র সামরিক ক্যাম্প থেকে আসা সেই ফোন ‘রিসিভ’ করেন কলেজছাত্রী শকুন্তলাই। ফোনে বলা হয়, চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন রাজেশ।
বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার বেলগড়িয়া গ্রামের বাড়িতে বসে বুধবার (১৭ জুন) শকুন্তলা বলছিলেন, ‘দাদা বলেছিল, ওপর থেকে ফিরে আবার ফোন করব। তোরা চিন্তা করিস না। এটাই ছিল দাদার শেষ কথা’ বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বুধবার সকাল থেকেই ভিড় শুরু হয় রাজেশের বাড়িতে। আসেন জেলা পুলিশের কর্তা থেকে নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। রাজেশের মৃত্যু মুছে দিয়েছে রাজনৈতিক বিভেদ। গোটা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের ছায়া। বেলগড়িয়া গ্রামে ঢোকার রাস্তা বর্ষায় বেহাল। রাজেশের মরদেহ আনতে যাতে সমস্যা না-হয়, সে জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা ঠিক করেছে।
রাজেশের মা মমতা ওরাং জানান, বড় মেয়ের বিয়ের পরে এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটত। রাজেশ চাকরি পেতে অবস্থা বদলায়। তার কথায়, ‘এ বার ছুটিতে এলে এই মাসেই বিয়ে দেয়ার কথা ছিল রাজেশের। লকডাউনে আসতে পারেনি। সব শেষ হয়ে গেল।’

Shares