আজ বৃহস্পতিবার , ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

বাউফলে ৫ হাজার মিটার অবৈধ বাঁধা জাল জব্দ ৫ বছর পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু জনগনের সেবক হতে চাই- অধ্যক্ষ পিকু জনগনের সেবক হতে চাই- অধ্যক্ষ পিকু হালুয়াঘাটে আশার আলো’র নির্বাচন! কাঞ্চন সভাপতি, আলী হোসেন সম্পাদক ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা: ডিবি হালুয়াঘাটে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং হালুয়াঘাটে বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত একদিনে আরও ৬০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯৫৬ ময়মনসিংহে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া গেল টয়লেটের ট্যাংকে বাউফলে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে বন্ধ ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাংবাদিক এনামুল ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল মা দিবসের শুভেচ্ছা ময়মনসিংহের এিশালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় ইফতার হালুয়াঘাটে আরব আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৬ শত মানুষ পেল ঈদ উপহার

৪ হাজার কলেজশিক্ষকের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশিতঃ ১:৪৪ অপরাহ্ণ | জুন ০৯, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২৬৭ বার

এম এইচ রবিনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের সব ডিগ্রি কলেজে বিষয়ভিত্তিক তৃতীয় পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেসরকারি কলেজে চাকরি নিয়ে সরকারের এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব শিক্ষক পড়েছেন বিপাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে যে নীতি, তার বিপরীত নীতিতে চলছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

দ্বৈত এ নীতির জালে বন্দি প্রায় চার হাজার কলেজশিক্ষক।জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিগ্রি পর্যায়ে পাঠদান করা প্রতিটি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর পর বেসরকারি কলেজগুলোয় তাদের ডিগ্রি কোর্স পরিচালনায় প্রতি বিষয়ে দুটি পদ থেকে তৃতীয় পদেও নিয়োগ নেওয়া হয় শিক্ষক।

এমন নিয়োগে যাদের চাকরি হয়েছে তারা এখন সরকারের এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন না। কারণ সরকারের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এই স্তরে প্রতি বিষয়ে দুজন করে শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন। তৃতীয় পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বছরের পর বছর যৎসামান্য বেতনে চাকরি করছেন।শিক্ষকদের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কলেজ ফান্ড থেকে নামমাত্র সম্মানী পেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকার যুক্তিতে এসব শিক্ষকের কোনো প্রকার সম্মানীভাতাও প্রদান করা হয় না। এরা সরকারের এমপিওভুক্তির অপেক্ষা করছেন।

নতুন চাকরিতে বয়স শেষ হওয়ায়, বাধ্য হয়ে কলেজে আছেন।ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রভাষক প্রদীপ ম-ল আমাদের সময়কে বলেন, সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় চার সহস্রাধিক শিক্ষক বছরের পর বছর বিনাবেতনে চাকরি করছেন। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকদের বিষয়ে বর্তমান সরকার আন্তরিক হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় এই চার হাজার শিক্ষকের ভাগ্য বদলায়নি।

ডিগ্রির তৃতীয় পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সব শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।কচুয়া ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষক জানান, ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগদান করার পর থেকে প্রশাসনের কাছ থেকে শুনে আসছেন তাদেরও এমপিওভুক্ত করা হবে।

এখনো তিনি আশায় আছেন। তবে কবে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে এই প্রশ্নের উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।এমন আরও কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর বিনাবেতনে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন তারা। তাদের মধ্যে যারা প্রাইভেট বা কোচিং চাহিদা আছে এমন বিষয়ের শিক্ষক, তারা কলেজে পাঠদানের বাইরে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন।

অন্যরা নিরুপায়।ঝিনাইদহ ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নির্দেশনার পর বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডি ডিগ্রির প্রতি বিষয়ে দুজন শিক্ষকের পর তৃতীয় একজনকেও নিয়োগ প্রদান করেছেন। এ নিয়োগ নীতিমালায় বলা হয়েছে ডিগ্রি পর্যায়ে প্যাটার্নবহির্ভূত নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ বেতন প্রদান করতে হবে।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নিয়োগপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই তৃতীয় পদের শিক্ষকদের কোনো প্রকার সম্মানীভাতা প্রদান করা হয় না।এ প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ডিগ্রি কোর্স পরিচালনাকারী বেসরকারি কলেজগুলোকে প্রতিটি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এটি না হলে ঠিকমতো পাঠদান নিশ্চিত হবে না।

এমপিওভুক্তির বিষয়টি সরকারের, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। তিনি বলেন, এসব শিক্ষককে এমপিও দেবে কিনা সরকার, সেটি দেখবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।মাউশির মহাপরিচালক দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মাউশির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার ডিগ্রি কলেজগুলোর প্রতি বিষয়ে দুজন শিক্ষককে এমপিও সুবিধা দিচ্ছে।

তৃতীয় পদে যারা নিয়োগ নিয়েছেন, তারা এমপিও পাবেন বা পাবেন না এর কোনোটাই নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লে তাদের বিষয়টিও সরকারের দৃষ্টিতে থাকবে। শিক্ষার বাজেটের অধিকাংশ অর্থই ব্যয় হয় শিক্ষকদের এমপিও খাতে।সুত্র আমাদের সময়

Shares