আজ শনিবার , ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

হালুয়াঘাটে আরব আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৬ শত মানুষ পেল ঈদ উপহার হালুয়াঘাটে রাস্তার দাবিতে মানববন্ধন মর্ডান স্পোটিং ক্লাবের দোয়া ও ইফতার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা কায়েসের ঈদ উপহার সচেতনতা মুলক স্টিকার ও মাস্ক বিতরণ করলো জনপ্রিয় সেচ্ছাসেবী সংঘঠন ত্রিশাল হেল্পলাইন আজ শফিকুল ইসলাম ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় ত্রিশাল ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ হালুয়াঘাটে কৃষকের ধান কাটলেন এমপি হালুয়াঘাটে কর্মহীন মানুষের মাঝে রুবেলে’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ! করোনাঃ মৃত্যুর মিছিলে ১৫৪ চিকিৎসক বাউফলে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মাঝে বিনামূল্যে স্যালাইন বিতরণ বাউফলে টাকা চুরি’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে জখম মৃত্যুপুরী ভারত শ্মশানে জায়গা না থাকায় গণচিতা ভারতে লুকানো হচ্ছে কোভিডে মৃতের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে মৃত্যু ও শনাক্ত সংখ্যা

মিয়া বোঝেন না, চোখেও দেখেন না? শুনুন এক পুলিশ সদস্যের কথা

প্রকাশিতঃ ১০:১২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৪৪৫ বার

অনলাইন ডেস্কঃ কোন এক জেলার একটা থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করার কয়েকদিন পর থানা এলাকায় হঠাৎ একটা হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল। খবরটা পেয়ে খুব দ্রুত ফোর্স নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলাম। ঘটনাস্থল বাড়ির কাছাকাছিই যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বাড়ি। ঘটনাস্থল বাড়িতে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দায়িত্বশীল তেমন কাউকে না পেয়ে লোকজন খুঁজতে খুঁজতে পাশেই বিবাদীদের বাড়িতে গেলাম।

দেখলাম বাড়িতে নারী ব্যতীত পুরুষ কেউ নেই। লক্ষ্য করলাম, বিবাদীদের বাড়িতে খুন হওয়া পক্ষের সব লোকজন ব্যাপক ব্যস্ততা নিয়ে বিচরণ করছে। সেই সাথে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। একজনকে দেখলাম বাড়িতে বেঁধে রাখা দুইটা গরু নিয়ে হাঁটা শুরু করতে। কয়েকজন ধান মাথায় নিয়ে রওনা দিচ্ছে। কেউ বা হাঁস মুরগি ধরা, আর কেউ বা ভাঙচুরে ব্যস্ত। এসব দেখে বললাম করছেন কি! এগুলো নিয়ে যাচ্ছেন কেন?

আমার কথা শুনে একজন বললো, আপনি কি নতুন এসেছেন? মিয়া বোঝেন না, চোখেও দেখেন না? পোশাক পরা পুলিশ সদস্যের সাথে এমন কথা শুনে হকচকিয়ে গেলাম। ভাবলাম আমার কোন ভুল হয়নি তো!

কিছুক্ষণ পরই বুঝলাম ভুল একটা হয়েছে আমার। এটা এই এলাকার প্রথা, তা আমার জানা উচিত ছিল না। কেউ খুন হলে তার মরদেহ ফেলে রেখে কত দ্রুত বিবাদীপক্ষের বাড়িঘরে গিয়ে লুটতরাজ আর ভাঙচুর করা যায় তারই একটা প্রতিযোগিতা চলে এলাকায়। নিজ লোক খুনের জন্য মাতমের চেয়ে কত দ্রুত প্রতিপক্ষের জিনিসপত্র লুটপাট করা যায় তারই আয়োজন চলে এলাকায়।

আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচার চাওয়ার চেয়ে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়াই তাদের কাছে নৈতিক মনে হয়। এলাকার অলিখিত নিয়ম হয়ে যাওয়া এমন অনিয়মের এসব বিষয়ে কেউ নিষেধ করলেই বরং মাইন্ড করে ওরা। বিষয়টা তখন জানা না থাকায় সেই সময় লজ্জা পেয়েছিলাম খুউব খুউব!!!

লেখক : ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ী থানা, ডিএমপি।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Shares