আজ মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মেয়রের আহব্বান বাউফলে তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত বাউফলে প্রায়তঃ শিক্ষকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত আত্মহত্যার পরও সূদের টাকার জন্য ফোন! ত্রিশালে সড়ক দূরঘটনায় একজন নিহত চার জন আহত ত্রিশালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত আমতলীতে মাদ্রাসা মাঠে ধান চাষ বরগুনায় ১০ দোকান পুড়ে ছাই হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চান পরিবার আইপিএলে ,নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার ত্রিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শাহ্ আহসান হাবীব বাবুর জন্ম দিন পালন বরগুনায় সেরা সম্পাদককে সংবর্ধনা বরগুনা বেতাগীর আলোচিত বজলু হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি আটক ত্রিশালে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সড়ক উদ্বোধন ত্রিশালে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গ্রেনেড হামলার রায় হলে নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়বে বিএনপি

প্রকাশিতঃ ৩:২২ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৫, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২১৪ বার

রাজনৈতিক ডেস্কঃ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘তারা (বিএনপি) এমনিতেই সংকটে আছে। এই মামলার রায় হলে তারা নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়বে।’ ওবায়দুল কাদের আরো বলেছেন, সেপ্টেম্বরে এ মামলার রায় হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এজন্য সবাই খুশি। কেবল বিএনপি অখুশি।

মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইভি রহমানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বনানী কবরস্থানে মরহুমার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন আইভি রহমান।
পরে ২৪শে আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। গতকাল তার কবরে আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠন এবং আইভি রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে, হাওয়া ভবনের সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সেদিন কিলাররা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।’ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হচ্ছে জেনে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন এই মামলার রায় হচ্ছে, এজন্য সবাই খুশি। বিএনপি কেবল অখুশি। সেপ্টেম্বরে রায় হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এ কথা শুনে বিএনপি চিন্তিত। তারা জড়িত বলে তাদের এই গাত্রদাহ। কারণ, তারা এমনিতেই সংকটে আছে। রায় হলে তারা নতুন করে সংকটে পড়বে।’

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে বিচারকাজ প্রভাবিত হবে বলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি তো বুঝতে পারলাম না কীভাবে প্রভাব পড়বে? আমিসহ ৫০০ জন তো এখনো পঙ্গু। কেউ অর্ধ পঙ্গু, কেউ পুরো পঙ্গু। এই হত্যাকাণ্ডের কি বিচার হবে না? বিএনপি তো আলামত পুড়িয়ে ফেলেছিল। এফবিআইকে তদন্ত করতে দেয়নি। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দেয়নি। তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের, এই নৃশংস গ্রেনেড হামলা, যা রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে, এর বিচার তো তারা করেনি। প্রহসনমূলক একটা তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ছিল হাস্যকর।’ ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘তখন তো ছিল খালেদা জিয়ার সরকার। তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কারণ, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালী হোক, ক্ষমা পাবে না। বিচারের রায় আমরা প্রভাবিত করতে চাই না। নিরপেক্ষভাবে বিচার হবে। বিচারে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’ বিএনপি আগামী নির্বাচন প্রতিহত করার কথা বলেছে- এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা কি প্রতিহত করবে? তারা নির্বাচন প্রতিহত করতে চাইলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।’

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপিসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপের এখন সময় নেই, সুযোগও নেই
এদিকে বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এখন আর সংলাপের সময় এবং সুযোগ নেই। সংলাপের প্রয়োজনও নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু দল আছে যারা আমাদের চৌদ্দ দলে নেই। যেমন কমিউনিস্ট পার্টি। তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের। কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে আমি গিয়েছি। তারা বামজোট। কিন্তু তারা আমাকে এতটুকু বলেছেন, কোনো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জোটের সঙ্গে থাকবেন না। আওয়ামী লীগের জোটেও তারা আসবেন এমন কোনো আশ্বাস তারা দেননি। কাদের সিদ্দিকী সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। যার যার অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারপর মেজর মান্নান, কর্নেল অলি সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কর্নেল অলির সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার সঙ্গে আমরা যেকোনো সময় আলাপ আলোচনা করতে পারি। কাজেই এসব বিষয়গুলো আলাপ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ফাইনাল হয়নি। ফাইনাল না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারি না কে আসছেন কে থাকছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এখন পর্যন্ত বলছে জোটেই থাকছে। বিএনপি ইলেকশন করলে তারা জোটে থাকবে। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এটা তো তারা প্রকাশ্যেই বলছে। এখানে কোনো রাখ-ঢাকের কিছু নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির সংলাপে কোনো আগ্রহ নেই। আমি বলবো তারা সংলাপের নামে স্ট্যান্টবাজি করতে চায়। প্রকাশ্যে মুখে বলে সংলাপ। তাদের অন্তরে সংলাপ নেই। তিনি বলেন, বিএনপি পার্লামেন্টের প্রতিনিধিত্বে নেই। কাজেই নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের থাকার সুযোগ নেই। আগের বার তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। সেজন্য আমরা তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত অফার করেছি।

তিনি বলেন, যদি অক্টোবরে সিডিউল ঠিক হয় তাহলে অক্টোবরেই নির্বাচনকালীন সরকার। মানে এই সরকার নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সরকার কার হাতে থাকবে সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এটা এ মুহূর্তে আমি বলতে চাই না। মন্ত্রিসভার সাইজটা ছোট হবে। এদের আবার নতুন করে শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবেন কি থাকবেন না এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে সরকারের কিছুই করার নেই।

Shares