আজ শনিবার , ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

খুলনায় বাঘের হামলায় ‘নিহত’ সিরাজুল ফিরলেন জীবিত হালুয়াঘাটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড খালেদার রোগ মুক্তিতে হালুয়াঘাটে বিএনপি’র দোয়া অসুস্থ্য স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে আসার সময় ট্রাকচাপায় এক প্রকৌশলী নিহত খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় হালুয়াঘাটে বিএনপি’র দোয়া খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হালুয়াঘাটে হেফাজত নেতা মাওঃ মামুনুলকে নিয়ে তর্ক! শিক্ষকের চোখে ঘুষি হালুয়াঘাটে লকডাউনের প্রথম দিনে ৩ জনকে অর্থদন্ড বাউফলে ৭ জনের অর্থদন্ড বরগুনায় আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর উপর হামলা, আহত-১০ ট্রাকে চাপ দিয়ে ছেঁচড়িয়ে নিয়ে যায় ‘অনিক’কে! আরও এক মর্মান্তিক মৃত্যু বাউফলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপিত ইউপি নির্বাচন বাউফলে ২ চেয়ারম্যান ও ১ মেম্বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বাউফলে ২ দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হালুয়াঘাটে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সুবর্ণগ্রামের শান্ত এইচএসসি ২০১৮-তে ঢাকা বোর্ডে প্রথম

প্রকাশিতঃ ১০:১৬ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৬, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২৩২ বার

আমিনুল ইসলামঃ সোনারগাঁ প্রতিনিধি( নারায়ণগঞ্জ)ঃ

ঢাকা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান আবু মুসা শান্ত৷ শান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার ললাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে৷ ইসমাইল হোসেন একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী আর শান্তর মা মোসা. শামীমা আক্তার স্হানীয় সুবর্ণগ্রাম স্কুলের শিক্ষিকা৷
আবু মুসা শান্ত’র জন্ম ১৯৯৯ সালে সোনারগাঁ উপজেলার ললাটি গ্রামে৷ পড়াশোনার শুরু সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলে৷ শিশু শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলেই পড়েছে শান্ত।পাশ্ববর্তী সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জে,এস,সি পরীক্ষা দিয়েছে৷ এরপর নবম শ্রেণি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের গিয়াউদ্দিন মডেল স্কুলে, সেখান থেকেই এসএসসি পাশ করে শান্ত৷ এরপর নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে।
২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষায় শান্ত’র রেজাল্ট ছিল জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) সাথে ট্যালেন্টফুল বৃত্তি এবং সোনারগাঁয়ে মেধাবী তালিকায় দ্বিতীয় স্হান অর্জন করে। ২০১৬ সালে এসএসসি-তেও একই ফলাফল ছিল তার৷ এবার ২০১৮ সালে ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে সে।
ছেলের ফলাফল সম্পর্কে আবু মুসা শান্তর বাবা জনাব ইসমাহিল হোসেন বলছেন, এর চেয়ে খুশির সংবাদ আর কিছুই নেই।আমার ছেলের ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা।সবার কাছে আমি আমার সন্তানের জন্য দোয়া চাই।
এ ছাড়া সুবরগ্রাম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কবি শাহেদ কায়েস তার প্রতিক্রিয়া বলেন,শান্ত ঢাকা বোর্ডে এইচএসসি-তে প্রথম হয়েছে, এই সংবাদটি শুনে আমি ভীষণ ভীষণ আবেগ আপ্লুত হয়েছি। আমি এতোটাই আপ্লুত হয়েছিলাম যে, আমার মনে হচ্ছিল তক্ষুনি চলে যাই ললাটি গ্রামে এবং শান্তকে বুকে জড়িয়ে ধরি। আমার বার বার মনে পড়ছিল কিছু দৃশ্য ও কথা। আমি যখন দেশে ছিলাম, দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এই শিশুদের শিক্ষা নিয়ে। ললাটিতে সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলসহ, সোনারগাঁয়ের আমাদের অন্যান্য স্কুলে শান্তসহ আরও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে আমি যখন উদ্বুদ্ধকরণ লেকচার (Motivational Class) দিতাম, তাদের উদ্দেশ্য করে আমি সব সময়ই বলতাম “আমার সামনে ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, দেশ বরেণ্য লেখক, কেমন আছো তোমরা?” আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত, এই দশ বছর সোনারগাঁয়ে সুবর্ণগ্রাম-এর সামাজিক কার্যক্রম-এর মধ্যে শিক্ষা বিষয়ক আপনি কি কি করেছেন? উত্তরে বলবো- আমি শুধু একটা কাজই করেছি। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি শিশুদের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে, একবার স্বপ্নটা জাগিয়ে দিতে পারলে বাকীটা ওরা নিজেরাই করে নিতে পারবে।

শান্ত আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সুবর্ণগ্রাম স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমাদের শান্ত প্রমাণ করেছে অদম্য মনোবল আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে জগতে সবই সম্ভব। শান্ত’র পড়াশুনা শুরু সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলে, সে শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত আমাদের স্কুলে পড়েছে। শান্ত’র মা-বাবা ও অন্যান্য শিক্ষকদের অনেক অবদান আছে শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শান্তকে গড়ে তোলার পেছনে। আজকে রঘু নন্দন ঢালী স্যারের কথা মনে পড়ছে খুব, তিনি আমাদের সুবর্ণগ্রাম স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন; আজ তিনি আমাদের মাঝে নাই, থাকলে কী যে আনন্দিত হতেন। আমাদের স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক পরীক্ষিৎ চন্দ্র ঢালী এবং অন্যান্য শিক্ষক, অন্যতম পরিচালক শহীদুল ইসলাম ও স্কুলের সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে অভিনন্দন জানাই। শান্ত সুবর্ণগ্রাম স্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে। এরপর গিয়াসুদ্দিন মডেল স্কুলে, সেখান থেকেই এসএসসি, এবং নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। ২০১৩ সালে জেএসসি-তে শান্ত’র রেজাল্ট ছিল “গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ এন্ড ট্যালেন্টফুল স্কলারশিপ”, ২০১৬ সালে এসএসসি-তেও গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ (এন্ড ট্যালেন্টফুল স্কলারশিপ) এবং ২০১৮ সালে এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা-তালিকায় প্রথম হয়েছে। শান্ত’র ওই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদের জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

শান্ত’র এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে আমরা গর্বিত। আমাদের আরও আরও শান্ত গড়ে তুলতে হবে। সে স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশের সেবা করবে। শা’ন্তর জন্য আপনাদের সবার দোয়া, ভালোবাসা ও শুভ কামনা

Shares