আজ শুক্রবার , ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

নালিতাবাড়ীতে কৃষি মেলার উদ্ভোধন ইকোপার্কে বেড়াতে গিয়ে খালু কর্তৃক ভাগ্নী ধর্ষণের শিকার শ্রীবর্দীতে পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু মেয়ের খুনের বিচার চাইলেন বাবা বাউফলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নালিতাবাড়ীতে বন্য হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আজম, সম্পাদক মজিবর নালিতাবাড়ীর নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নিখোঁজ শিক্ষার্থী উদ্ধার নালিতাবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত দলিল প্রতি অতিরিক্ত ফি ১০ হাজার টাকা। প্রতিবাদে ধোবাউড়ায় সংবাদ সম্মেলন রামচন্দ্রকুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা: সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, আহত হালুয়াঘাটে গাছের সাথে শত্রুতা হালুয়াঘাটে আরও ২৯ জন ভূমিহীনকে জমিসহ ঘর প্রদান ময়মনসিংহে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক। প্রধান মন্ত্রীর উপহার চান ভাগ্য বিড়ম্বিত বিধবা রেনুবালা!

বাবা ঘরে কিছু নাই, হুদা করলা ভাঁজা দিয়া সেহরী খাইছি!

প্রকাশিতঃ ৪:০৩ অপরাহ্ণ | জুন ০১, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৪৮৪ বার

ওমর ফারুক সুমনঃ  বাজান হোন্ডার নিচে পইরা আমার একটা পাও ভাইঙ্গা গেছে। অহন উঠবার পায়না বাবা! আডাচাড়াও (নড়াচঁড়া) করবার পায়না। মাইনসে টাইন্যা (টেনে) লইয়া গেলে ইট্টু যাইবার পাই। আমার দুইডা পোলা আছিন। এক পোলা অসুখে মইরা গেছে। আরেক পুলা বাইচ্চা আছে। কিন্তু হেও (সেও) কঠিন অসুগে ঘরে পইরা রইছে। আমার একটা মাইয়া আছে। হেরেও স্বামীও অনেক আগেই ফালাইয়া রাইখা গেছে। ঐ মাইয়াডাই আমারে দেহে। মাইয়াই তো খাইবার পায়না। আমারে কেমনে দেখবো বাজান? আমারে কি একটা বয়স্ক ভাতা কার্ড দিলাইননা! আইন্যেরা না দিলে আমারে দেখবো কেডা? অহনতো বয়স অইছে। কবে মইরা যামুগা। আইজকা সেহরীর সময় হুদা করলা ভাঁজা দিয়া ভাত খাইছি। তাও আবার করলাডা হুডা আছিন! বাবা রোযা ভাংবার মন চাইনা। ভালাতো কিছু পাইনা! পুতেরইতো চলেনা, নইলেতো খাওন দিতই। হেই পাশের ঘরে পইরা আছে। চেয়ারম্যানের কাছে কয়বার গেলাম। দেয়না কিছু! শুক্রবার (২৫ মে) সকালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের দর্শারপাড় গ্রামের ৯২ বছর বয়সের বৃদ্ধা নুরজাহান বিবি প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে এ ভাবেই করুন সুরে দুঃখের কথা গুলো রোযা রাখা অবস্থায় বলতেছিলেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বয়সেও সে একটি রোযা ভাঙ্গেনি। কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলতে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ফ্যাঁলফ্যাঁল করে তাকিয়ে থাকে নুরজাহান। নিরব হয়ে যায় তারদেহ। একপর্যায়ে ভাঙ্গা পা’টা দেখিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়েন তিনি। এদিকে স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মারে লইয়া উপজেলা পরিষদে চার দিন গেছি। কইছে ছাগল দিবো, কার্ড দিবো। মেম্বারে দুইদিন যাইবার কইছে। পরে গেছি। পরে হেরা কিছুই দেইনাই। নামই নিছেনা! ছাগল দিবো কেমনে? বইয়া থাইকা চইলা আইছি। কত গেলাম, পাত্তাই পাইনা! অনেক মানুষ ধরলাম কিছুই পাইলামনা। মাইনসে বয়স্ক ভাতা পায়, বিধবা ভাতা পায়। আমরা কিছুই পাইনা। অন্যদিকে পাশের ঘরে অসুস্থ্য থাকা নুরজাহান বিবির ছেলে রহেদ আলীর সঙ্গে কথা বললে, তিনি বলেন, আমিও ঘরে পইরা আছি। শরীর ফুইলা গেছে আমার। শ্বাসকষ্ট হাপানীতে ভুঁগছি। মারে ঠিকমতো দেখবার পাইতাছিনা। ৭ বছর যাবত পা ভাইংগা ‘মা’ ঘরে পইরা আছে। ডাক্তার ময়মনসিংহে নিবার কইছিলো। অপারেশান করতে। লাখ খানেক টেহা লাগবো। এতো টেহা পাইবাম কই আমরা! পরে আর নিবার পাইনাই। জানা যায়, এই বয়সেও একটি রোযাও ভাঙ্গেনি নুরজাহান বিবি। তবে তার শরীর ভালো নেই। রোগ শোকে জর্জরিত। হয়তো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে শান্তিতে মরতে পারতেন। কিছুটা হলেও তার তৃষ্ণা মিটতো। আমরা কি পারিনা প্রায় শত বর্ষী এই নুরজাহান বিবির মুখে একটু হাঁসি ফুঁটাতে।
এবিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, আমি নুরজাহান বিবির এখনো জানতে পারিনি। আজকেই খোজ খবর নিবো। তবে তার জন্য একটা বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এরআগে গত শনিবার (১৯ মে) সকালে প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ মিঠাই দিয়ে সেহরী খাওয়ার কথা বলছিলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের আফজান বিবি ( ৭৭) নামে এক বয়স্ক নারী। তার চাওয়া শুধু একটি বয়স্ক ভাতা কার্ড। পরে ওই খবরটি গনমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশ বিদেশের অনেক সাহায্যকারী মানুষ বৃদ্ধ আফজান বিবির পাশে এগিয়ে এসেছেন।

Shares