আজ সোমবার , ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

বিচারপতি টি.এইচ.খান আর নেই হালুয়াঘাটের যুবককে পিটিয়ে হত্যা হালুয়াঘাটের যুবককে পিটিয়ে হত্যা হালুয়াঘাটে দুই গারো তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৫ বাউফলে নৌকার মাঝি হলেন বর্তমান মেয়র জুয়েল কেন্দুয়ায় মৃত ব্যক্তি ভেঙ্গেছে নৌকা প্রার্থীর বাড়ীঘর ওসি শাহিনুজ্জামান’র শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হালুয়াঘাটে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে শশুরকে জবাই জামাতার! রামচন্দ্রকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রামচন্দ্রকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রামচন্দ্রকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বাউফলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হালুয়াঘাটে ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস উদযাপন বাউফলে যুবদলের ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পলিত নালিতাবাড়ীতে শিক্ষক নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আমার কি কার্ড অইতোনা বাজান?

প্রকাশিতঃ ১১:২৪ অপরাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ২৫৩ বার

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাটঃ
হঠাৎ একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ব্যাস্ততা থাকায় দু’বার ফোনটা কেটে দিলাম। এরপর বিরক্ত হয়েই রিসিভ করলাম। কে বলছেন? কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,  আমি দর্শার পাড় থেকে কইতাছি। আমার কার্ডটা কি অইতোনা বাজান?  কে ? কে আপনি? হঠাৎ মনে পড়ে গেলো। সেই চিরচেনা কন্ঠ নুরজাহান বিবির কথা। যেই নুরজাহান বিবি কদিন আগেও নিজের দুঃখের কথা বলেছেন। বলেছেন তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কথা। সেই কথাগুলো আজও মনে পড়লে ভারাক্রান্ত হয়ে যায় মন।  বাবা!  হোন্ডার নিচে পইরা একটা পা ভাইংগা গেছে।উঠবার পায়না বাবা!আডাচাড়া(নড়াচঁড়া) করবার পায়না! মাইনসে টাইন্যা (টেনে) নিয়া গেলে যাইবার পাই! এক পোলা অসুখে মইরা গেছে! আরেক পুলা আছে সেও কঠিন অসুগে ঘরে পইরা আছে! মাইয়া একটা তার স্বামীও ফালাইয়া রাইখা গেছে।ঐ মাইয়াডাই আমারে দেহে। মাইয়াই তো খাইবার পায়না। আমারে কেমনে দেখবো। আমারে একটা কার্ড দিলাইননা। আইন্যেরা না দিলে দেখবো কেডা! বয়স অইছে। মইরা যামুগা।আজ সেহরির সময় হুডা করলা ভাঁজা দিয়া ভাত খাইছি।রোযা ভাংবার মন চাইনা। ভালাতো কিছু পাইনা! পুতেরইতো চলেনা, নইলেতো খাওন দিতই। হেই ঘরে পইরা আছে। চেয়ারম্যানের কাছে কয়বার গেলাম! দেয়না কিছু! সেই গেলো রমজান মাসে এ প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে এইভাবেই করুন সুরে কথাগুলো বলেছিলেন রোযা রাখা অবস্থায় ৯২ বছর বয়সের এক বৃদ্ধা নারী। তার বাড়ি উপজেলার ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের দর্শারপাড় গ্রামে। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বয়সেও সে একটি রোযা ভাঙ্গেনি তখন। কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলতে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ফ্যাঁলফ্যাঁল করে তাকিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে নিরব হয়ে যায়।একপর্যায়ে ভাঙ্গা পা’টা দেখিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ে।
স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু বলেছিলেন, উপজেলায় চার দিন মারে নিয়া গেছি। কইছে ছাগল দিবো, কার্ড দিবো। মেম্বারে দুইদিন যাইবার কইছে। পরে গেছি। পরে কিছুই দেইনাই। নামই নিছেনা! ছাগল দিবো কেমনে! বইয়া থাইকা চইলা আইছি। কত গেলাম, পাত্তাই পাইনা! কত বেহেরি ধরলাম! কিছুই পাইলামনা। মাইনসে বয়স্ক ভাতা পায়, বিধবা ভাতা পায়। আমরা কিছুই পাইনা।পরে ঐ মহিলার অসুস্থ্য ছেলে রহেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেছিলেন, আমিও ঘরে পইরা আছি। শরীর ফুইলা গেছে আমার। শ্বাসকষ্ট হাপানীতে ভুঁগছি।মারে ঠিকমতো দেখবার পাইতাছিনা। ৭ বছর যাবত পা ভাইংগা ‘মা’ ঘরে পইরা আছে। ডাক্তার ময়মনসিংহ নিবার কইছিলো। অপারেশান করতে। লাখ খানেক টেহা লাগবো। এতো টেহা পাইবাম কই। পরে আর নিবার পাইনাই।জানা যায়, এই বয়সেও একটি রোযাও ভাঙ্গেনি নুরজাহান বিবি।তবে তার শরীর ভালো নেই।রোগ শোকে জর্জরিত। হয়তো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে শান্তিতে মরতে পারতেন কিছুটা হলেও তৃষ্ণা মিটিয়ে। সেই নুরজাহানের আকুতি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড।

Shares