আজ শনিবার , ১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

শিরোনাম

নালিতাবাড়ীর মাদক সম্রাট পিচ্চি খোকন আটক শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিশ্ব হাতি দিবস পালিত নালিতাবাড়ীতে কৃষি মেলার উদ্ভোধন ইকোপার্কে বেড়াতে গিয়ে খালু কর্তৃক ভাগ্নী ধর্ষণের শিকার শ্রীবর্দীতে পানিতে ডুবে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু মেয়ের খুনের বিচার চাইলেন বাবা বাউফলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নালিতাবাড়ীতে বন্য হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আজম, সম্পাদক মজিবর নালিতাবাড়ীর নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নিখোঁজ শিক্ষার্থী উদ্ধার নালিতাবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত দলিল প্রতি অতিরিক্ত ফি ১০ হাজার টাকা। প্রতিবাদে ধোবাউড়ায় সংবাদ সম্মেলন রামচন্দ্রকুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা: সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, আহত হালুয়াঘাটে গাছের সাথে শত্রুতা হালুয়াঘাটে আরও ২৯ জন ভূমিহীনকে জমিসহ ঘর প্রদান

ঝালকাঠিতে সালাউদ্দিনের সাপের খামার! কৌতুহলি মানুষের ভিড়

প্রকাশিতঃ ২:২৬ অপরাহ্ণ | জুন ৩০, ২০১৮ । এই নিউজটি পড়া হয়েছেঃ ৩০২ বার

ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ জেলা ঝালকাঠির রাজাপুরে নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে উঠেছে একটি বিষধর সাপের খামার। সরকার বেসরকারি উদ্যোগে সাপের বাণিজ্যিক খামার স্থাপনের জন্য ২০টি শর্ত দিয়ে ২০০৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কষ্টে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে খামার মালিক সালাউদ্দিন শুরু করতে পারছেন না বিষ উৎপাদনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। প্রতি মাসে কোটি টাকার বিষ উৎপাদনে সক্ষম ওই খামারটি বিষ উৎপাদনের জন্য নিবন্ধনের আবেদন করে এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। বিস্ময়কর ওই খামারটি দেখতে কৌতূহলি মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন খামারির বাড়িতে। দেখছেন বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ, শুনছেন সাপ নিয়ে অজানা তথ্য ও সম্ভাবনার কথা।
রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর রাজাপুর গ্রামের সালাউদ্দিন মৃধা নামের এই তরুণ তার নিজ বাড়িতেই নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে তুলেছেন বিষধর এই সাপের খামার।

খামারের নাম দিয়েছেন ‘রাজাপুর কোবরা ভেনম’। দেশি কোবরা, শঙ্খীনি জাতের সাপ নিয়েই গড়ে তুলেছেন খামারটি। গত বছর ৫টি সাপ নিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করলেও এখন প্রচুর সাপ আছে তার খামারে। সাপের বিষ রপ্তানির উদ্যোগ নেয়ার কথা সরকার ঘোষণা করার পর অনুপ্রাণিত হয়ে সালাউদ্দিন খামারটি গড়ে তোলেন। খামার থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বিষ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তরুণ উদ্যোক্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারছেন না তিনি। সালাউদ্দিন আরো জানান, প্রথমদিকে গ্রামবাসী তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। সাপুড়ে, বেদে বলে ডাকতো। এমন কথাও শুনতে হয়েছে- ‘শেষ পর্যন্ত সাপের ব্যবসা করতে হলো’! সেই সঙ্গে ছিল কুসংস্কারের ভয়াল থাবা। কিন্তু এখন দেখেন সবাই তার সঙ্গে। তাই সব সময়ই খামারের নিকটে থাকে উৎসুক জনতার ভিড়। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ মারে না। কারও বাড়িতে সাপ ধরা পড়লে তাকে খবর দেয়। তিনি গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে খামারে নিয়ে আসেন। গ্রামে কারো বাড়িতে সাপ আছে- এমন সংবাদ পেলেই ছুটে যান তিনি ও তার সঙ্গীরা। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন খামারে। মূলত মানুষের হাত থেকে বিপন্ন সাপকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। ফলে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘সর্পপ্রেমী মানুষ’ হিসেবে। এদিকে, প্রতিদিন যারাই আসছেন সকলেই খামার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। নানা দিক জেনে শুনে বাস্তবে দেখে সাপ নিয়ে আতংক, কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারনার অনেকটাই কেটে গেছে তাদের। তারাও দাবী জানাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতার। খামারে আসে পাশে রোপণ করা হয়েছে সাপের খাদ্য সরবরাহের জন্য কলাগাছ। এর মাঝেই বাস করছে সাপের প্রধান খাদ্য ব্যাঙ। পোষা হচ্ছে কোয়েল পাখি। কোয়েলের ডিম সাপের খাবার হিসেবে রাখা হয়।

Shares